বিয়ের আগে তো এমন কোন কথা ছিলো না (মা)

Posted on

পড়ে দেখুন একবার
– দেখো,বিয়ের আগে তো এমন কোন কথা ছিলো না যে,তোমার
মায়ের এ যন্ত্রণা গুলো আমাকে সহ্য করতে হবে।প্রতিদিন
খাওয়ানো,গোসল করানো।এসব করতে হবে জানলে তোমাকে বিয়ে
করতাম না।
.
< আমার মা বৃদ্ধ বলে তুমি এগুলোকে যন্ত্রণা বলতে পারো না।এসব
তো সব মেয়েরাই বিয়ের পর করতে হয়
.
– সেই দিন তোমার মা আমার পছন্দের গ্লাসটা ভেঙ্গে ফেলেছে।
এর আগে ডিনার সেটটা হাত থেকে ফেলে ভেঙ্গে ফেলেছে।
.
< আম্মুর বয়স হয়েছে,কোন জিনিস ধরলেই হাত কেঁপে উঠে।তুমি
প্লিজ একটু মানিয়ে নাও না
.
– কয়টা মানবো বলো তো,সেদিন টাইলস করা আমার ড্রয়িং রুমে
কফ ফেলে নষ্ট করেছে।এগুলো মানা আমার পক্ষে সম্ভব না।
.
< আমি তো তোমাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি।প্রেম করার সময়
তো আমি তোমাকে বলতাম আমার মায়ের কথা ,কিন্তু তুমি তো
বলতে সব কিছু মানতে পারবে।
.
– তোমার মা এমন যে করবে তা তো জানতাম না।
আমি একটা কথা বলি ,যেটা তোমার জন্য ও মঙ্গল হবে এবং আমার
জন্য ও মঙ্গল হবে।
.
< কি? বলো শুনি।
.
মাকে বরং আমরা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসি।প্রতি মাসে আমরা না
হয় দেখে আসব।
.
< কি বলছো এসব।মা কে ছাড়া আমি এক দিন ও থাকতে পারবো
না।
.
– দেখো আমি কিছু জানি না, হয় তোমার মাকে নিয়ে থাকবা তা
না হলে আমাকে নিয়ে থাকবা।যদি না পারো তাহলে আমাকে
ডিভোর্স দিয়ে দাও।
.
¤¤ কথা গুলো বলে রাগে চলে গেলো মৌ।নাঈম ভাবতেও পারে নি
বিয়ের পর এতোটা পরিবর্তন হয়ে যাবে তার প্রিয়তম স্ত্রী মৌ।সে
তো মৌ কে জীবনের চেয়ে ও বেশি ভালোবাসতো।৪ বছরের প্রেম
করার পর ,মা তাদের সম্পর্ক মেনে নিয়ে ধুমদাম ভাবে বিয়ে দেয়।
মানুষ এভাবে বদলে যাবে তা খোদ নাঈম ভাবতে ও পারে নি।
বিবাহের পূর্বে আম্মুকে কতই না ভালোবাসতো মৌ।নাঈমের মা
আজকে সব জেনে গেছে ,তাকে জীবনের বাকি অংশটা বৃদ্ধাশ্রমে
থাকতে হবে।কারণ বিকেলে অফিস থেকে নাঈম ফেরার পর মাকে
আলমারি থেকে ভালো ভালো কাপড় গুলো নিয়ে ব্যাগ গোছাতে
বললো।
.
মা প্রচন্ড কষ্টে কান্না করতেছে আর ব্যাগ ঘুছাচ্ছে।মা কল্পনা ও
করে নি যে,তার আদরে সন্তান নাঈম তাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে
দিবে।
নাঈম লক্ষ্য করে দেখলো মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর খবর শুনে
মৌ অনেক খুশি।
.
< মৌ ,আমি মাকে নিয়ে বের হচ্ছি
.
– মৌ একটা হাসি দিয়ে বললো যাও।সন্ধ্যার পর কিন্তু আজকে
আমরা বাহিরে খাবো
.
নাঈম একটা মুচকি হাসি দিলো এবং মাকে ডান হাত দিয়ে জড়িয়ে
ধরলো এবং ব্যাগটা বাম হাতে নিয়ে গাড়িতে উঠলো।মা তুমি
কান্না করতেছ কেন? কই বাবা না তো কান্না করতেছি না ।
চশমাটা বাবা ব্যাগ থেকে বের করে দাও তো।এই নাও মা।মা
তোমার বুকে আমাকে একটু জড়িয়ে নাও না।মা নাঈমকে বুকে
জড়িয়ে নিলো।নাঈম কান্না করতে করতে বললো ,মা আমি না
অফিস থেকে ২ মাসের ছুটি নিয়েছি ।আমরা মনোরামপুর যাচ্ছি
,সেখানে আমি একটি বাড়ি কিনেছি।আমার অফিস ও খুব কাছে।
তুমি আমি মামা মামি সবাই মিলে ঐ খানে থাকবো।এই বাড়িটা
বিক্রি করে দিয়েছি।আর মৌ কে ডিভোর্স লেটার দিয়ে এসেছি
এবং মৌ এর যতো পাওনাদি ছিলো তা মৌ এর একাউন্টে দিয়ে
দিয়েছি।
মা আরো জোরে কান্না করতে থাকলো।নাঈম এ বৃদ্ধ মাকে এত্তো
ভালোবাসে।আজ যেনো মায়ের ১০ মাস ১০ দিনে যন্ত্রণার
স্বার্থকতা পাচ্ছে।
.
নাঈম মৌ কে ফোন করে বলে দিলো তার টেবিল থেকে চিঠিটা
পড়ে নিতে।চিঠিটা…
প্রিয় মৌ,
ভালোবাসে একটু সুখের আশায় তোমাকে বিয়ে করেছিলাম।কিন্তু
তুমি আমার মাকে কষ্ট দিয়েছ।আমার মায়ের প্রতিটি কষ্ট আমার
বুকটাকে কাঁচের টুকরার ন্যায় তোমার প্রতি জমানো সব
ভালোবাসা নষ্ট করে দিয়েছে।তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো ।
তুমি যা চেয়েছ তাই হয়েছে।তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিলাম ।তা
সাইন করে দিয়ো এবং ব্যাংকে ২০ লক্ষ টাকা তোমার একাউন্টে
দিয়ে দিলাম।
ইতি
নাঈম।
.
¤¤ বৌ চলে গেলে ও টাকা থাকলে অনেক বৌ পাওয়া যাবে কিন্তু
এক মাকে হারালে দুনিয়াতে আর কিচ্ছু পাওয়া যাবে না রে….

Mostafiz

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s